এরই নাম জীবন rani sen

এরই নাম জীবন
রানী সেন
আজ নিজভূমে পরবাসী ওরা
নিজের জন্মভিটে ওদের পর করে দিয়েছে-
না দিয়েছে খাদ্য, বস্ত্র, না দিয়েছে বাসস্থান
উদরের আগুন নিয়ে জীবন জীবিকার জন্য
পাড়ি দিয়েছে অন্য রাজ‍্যে।
যেখানে ধর্মীয় গোড়ামীর কোনো অণুশাসন নেই
কোনো আপন পর নেই।
সবার কাছেই একটাই চাহিদা বেঁচে থাকার জন্য অর্থ চাই
দুবেলা দুমুঠো খেয়ে পড়ে রূপোলী জোছনায় একটু
সুখস্বপ্ন দেখবে বলে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করা-
পরিবার পরিজনের জন‍্য মননের কন্ঠমূলে জমে থাকা গহণ ব্যথাকে দূরে সরিয়ে নিঃসঙ্গ রাত কাটানো ।
হয়তো বছরে একবার পুজো বা ঈদের সময়
যখন প্রফুল্লিত সৌরভে আকাশে বাতাসে ভাসতে থাকেন মা দুগ্গা
কিংবা ঈদের চাঁদ পল্লবীতো মেঘেদের সাথে জড়াজড়ি করে নীল আকাশে খেলা করে!
তখনই ওরা প্রিয় জনের কাছে এসে আহ্লাদে আপ্লুত হয়।
আবার বিদায় বেলায় নিসঙ্গতায় সপ্তরঙা দুঃখের সমাবেশ ঘটে।
প্রিয়ার চোখে জল সন্তানের জন্য পিছুটান-
সবকিছু দূরে সরিয়ে সামনে এগিয়ে চলা….
মৃত জোনাকির ক্ষীয়মান আলোতে বাবুই-পাখিরা যেমন বাসা বাঁধে,
তেমনি নিজের গাঁ ছেড়ে আবার ঐ পথে একাকি হাঁটতে হাঁটতে পরবাসে থিতু হওয়া।
জীবনকে আরও সুন্দর করার জন্য
স্বপ্ন পথের চাঁদনী পেরিয়ে আলোর সন্ধানে ক্রমাগত এগোতে থাকা।
এরই নাম জীবন।
রানী সেন, কর্ণজোড়া, রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!