একটি বইয়ের আত্মকথন

ইতিহাস সবার জানা আছে উত্তরবঙ্গের? প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন হ্যাঁ জানি। আবার কেউ বলবেন সেইভাবে জানিনা। আমি কিন্তু বলবো সব জানি। কি ভ্রু কুচকে আছেন!!!! চক্ষু চড়কগাছ হবে এটা আমার জানা। আপনারা ভাবতে বসেছেন অহংকারী বটে! সত্যি বলছি আপনারা ঠাট্টা করবেন না। আচ্ছা ভনিতা না করে আমি পরিচয় দিচ্ছি। আমি ‘উত্তরবঙ্গ ইতিহাস, পরিবেশ ,পর্যটন’ গ্রন্থ। ইতিহাসবিদ কমলেশ গোস্বামী সম্পাদিত গ্রন্থ। তিনি রায়গঞ্জ নিবাসী। খুব ভালো মনের , সাহিত্য প্রেমিক মানুষ তিনি। তার মস্তিষ্কপ্রসূত আমি। খুব দরদ দিয়ে তিনি সম্পাদনা করেছেন।
আমার পাতায় যে চিত্র গুলি দেখতে পাবেন সব প্রণবেশ সান্যাল, প্রশান্তকুমার পন্ডিত, তাপস দাস, অপূর্ব সেন , উৎপল ঝাঁ প্রমুখগণের দৌলতে। উত্তরবঙ্গ পাহাড়, নদী ,জঙ্গল ,দীঘি ঐতিহাসিক নিদর্শন নিয়ে তার ডালি সাজিয়ে রেখেছেন। ভাবলে অবাক হবেন কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লিখেছেন বিশেষ রচনা। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন পর্যটনের স্বপ্ন উত্তরবঙ্গ কে। উত্তরবঙ্গের জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্য নিয়ে লিখেছেন প্রশান্ত কুমার পন্ডিত। বন ও বন্যপ্রাণী নিয়ে লিখেছেন প্রণবেশ সান্যাল। পাখির দেশ কুলিককে নিয়ে লিখেছেন শেখর কুমার রায় (মূল ইংরেজি রচনা অপূর্ব সেন)। উত্তরবঙ্গ নদী প্রধান অঞ্চল। প্রত্যেক নদীর একেকটি করে নাম রয়েছে। এই নামগুলি কেন এসেছে কিভাবে এসেছে তার বর্ণনা কিন্তু করেছেন শোভন সান্যাল, চারুচন্দ্র সান্যাল , কমল সরকার।

ইতিহাসের গন্ধ শুকতে যারা ভালবাসেন, ভাঙ্গা ইটের স্তুপ এর মধ্যে খুঁজে পান প্রাচীন জনজীবনকে। তাদের জন্য লিখেছেন মলয় শংকর ভট্টাচার্য্য, হিমাংশু কুমার সরকার, বিপুল মন্ডল, অরূপ দাস, স্বয়ং সম্পাদক মহাশয়, সুপ্রিয় দাস, রতন বিশ্বাস, অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষ মহাশয় প্রমুখগণ।
ভূমিপুত্র কোচ রাজবংশী দের কে নিয়ে লিখেছেন রুদ্র নারায়ণ সান্যাল, নৃপেন্দ্রনাথ পাল, স্বর্ণময় অধিকারী প্রমুখগণ। চা শিল্প , চায়ের ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন দেবেশ কান্তি চক্রবর্তী, শ্যামলী সান্যাল। উত্তরের মানুষ হস্তশিল্পে পারদর্শী। কাঠের কারুকার্য বাশের কারুকার্য থেকে শুরু করে মাটির নানা জিনিস তৈরিতে সিদ্ধহস্ত। এই হস্তশিল্প উত্তরের মানুষদের জন্মগত। হস্ত শিল্পের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সুনীল চন্দ্ এবং উপেন্দ্রনাথ বর্মন। রান্নাঘরের খোঁজ দিয়েছেন সুনন্দা গোস্বামী, সুব্রত চক্রবর্তী, আব্দুস সামাদ।
প্রত্যেক বিশিষ্ট গুণীজনরা আমাকে সাজিয়ে তুলেছেন নিখুঁতভাবে। উত্তরের ইতিহাস জানতে গেলে আমাকে তাই ঠাই দিতেই হবে আপনাদের বাড়িতে। আশা রাখছি আপনাদের কাজে লাগবো।
কি এবার বিশ্বাস হলো তো!!!!!! আপনারা ভাবছেন আমাকে কোথায় খুঁজে পাবেন! চিন্তা করার দরকার নেই। আমি প্রকাশিত হয়েছি রুপালি পাবলিকেশন থেকে। যোগাযোগ করবেন এই ঠিকানায়——+রুপালি, ২০৬ বিধান সরণি, কলকাতা, ৭০০০০৬ । আমি আপনাদের অপেক্ষায় রইলাম———-

ধন্যবাদ

ঋণ স্বীকার—– কমলেশ গোস্বামী মহাশয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!