এসেছ বন্ধু? তোমার কথাই জাগছিল ভাই প্রাণে,-

কাল রাতে মোর মই প’ড়ে গেছে ক্ষেতভরা পাকা ধানে।

ধান্যের ঘ্রাণে ভরা অঘ্রানে শুভ নবান্ন আজ,

পাড়ায় পাড়ায় উঠে উৎসব, বন্ধ মাঠের কাজ।

লেপিয়া আঙিনা দ্যায় আল্পনা ভরা মরাইএর পাশে;

লক্ষ্মী বোধ হয় বাণিজ্য ত্যাজি’ এবার নিবসে চাষে।

এমন বছরে রাতারাতি মোর পাকা ধানে পড়ে মই!

দাওয়ার খুঁটিতে ঠেস্ দিয়ে বসো,- সে দুখের কথা কই;

বোশেখ, জ্যষ্টি, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্দর, আশ্বিন,-

আশা-আতঙ্কে খেয়াল ছিল না কোথা দিয়ে কাটে দিন।

দুর্যোগে সবে বালির বাঁধনে বাঁধিনু বন্যাধারা,

বুকের রক্ত জল কোরে কভু সেচিনু পাণ্ডু চারা।

কার্তিকে দেখি চারিদিকে,- একি! এবার ত নহে ফাঁকি!

পাঁচরঙা ধানে ছক্-কাটা মাঠ জুড়ায় চাষার আঁখি।

অঘ্রানে থাকে থাকে

কাটিয়া তোলায় খামারে গোলায় যাহার যেমন পাকে।

আমি রোজ ভাবি- ফসলটা নাবি, আরও ক’টা দিন যাক্,

ভরা অঘ্রানে ঘটেনা- ত কোনো দৈব দুর্বিপাক।

মরাই-সারাই শেষ কোরে, সবে খামারে দিইছি হাত,

কালকে হঠাৎ,-

বন্ধু, দোহাই, তুলোনাকো হাই, হইনু অপ্রগল্ভ,-

ক্ষমা করো সখা, বন্ধ করিনু তুচ্ছ ধানের গল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!